ত্বক ও চুলের বিভিন্ন সমস্যা, চিকিৎসা ও পরামর্শ

শ্বেতী রোগ

ত্বকের বর্ণ তৈরী করে এমন কোষগুলো (Melanocyte) যখন নষ্ট হয়ে যায় তখন ত্বক আর বর্নিল থাকতে পারেনা, বর্নহীন ত্বকের এমন একটি রোগেরই নাম শ্বেতীরোগ বা ভিটিলিগো। জাতি-গোত্র-বর্ণ নির্বিশেষে শতকরা ১ ভাগ মানুষের এমন অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়।
অনেক সময়ই রোগটি পারিবারিকভাবে ছড়ায় বিশেষ করে যাদের ত্বকের অনেক বড় অংশ নিয়ে এটি আবির্ভুত হয়। কোনো স্থানে আঘাত পেলে বা রোদে পুরে (Sunburn) গেলে ওখানে ভিটিলিগো শুরু হতে পারে।
কালো বা বাদামী বর্ণের লোকজনের জন্য এটা কিছুটা বিব্রতকর হলেও বর্নহীন স্থানটি কিন্ত কোনো ক্ষতি করেনা, এ স্থানের অনুভুতিও একই থাকে। সাধারনত একই সাথে শরীরের দুই পাশের হাতের আংগুল, কবজি, কনুই, হাটু, গলা, মুখ বা চোখের চারপাশে ভিটিলিগো হয়ে থাকে, মাথা বা গালেও হতে দেখা যায়।

বর্নহীন এলাকাটি অনেক সময়ই একই আকারে থেকে যায়, কখনো আবার বাড়তেও থাকে ধীরে ধীরে, যারা কিছুটা সৌভাগ্যবান কখনো কখনো তাদের ঐ স্থানটি পুনরায় কিছুটা বর্ণ ফিরে পেতে পারে। তবে স্থানটিকে সরাসরি সুর্যের আলোয় আনলে এটা বড় হতে থাকতে পারে, তাই কোনো পোশাকে ঢেকে রেখে বা sun screen জাতীয় কিছু ব্যবহার করে একে সূর্যরশ্মির হাত থেকে বাচানোর ব্যপারে যত্নবানেরা লাভবান হতে পারেন।
এর তেমন একটা ফলপ্রসু চিকিৎসার কথা এখনো জোরেশোরে শোনা যায়না। ফটোকেমোথেরাপী দিলে কিছুটা আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া যেতে পারে।তবে এ নিয়ে অনেক গবেষনা এখন ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষায় আছে যা হয়তো বিশাল কোনো সাফল্যের খবর ও শোনাতে পারে।

চুল পড়া / টাক পড়া (Baldness)

সাধারণত পারিবারিক (জেনেটিক) কারণে হয়, এছাড়া ইমিউনোলজিকাল বা কোনো অষুধের (ক্যান্সার কেমোথেরাপি) পার্শ-প্রতিক্রিয়া হিসাবেও রোগ হতে পারে। তরুণ বয়সে হয়ে থাকলে সাধারণত এর উৎস মূলত পারিবারিক এবং এক্ষেত্রে চুল পরা শুরু হয় মাথার সামনের দিক থেকে এবং পরে মাথার পেছনের অংশেও হয়। যদিও পুরুষের ক্ষেত্রেই এর প্রাদুরভাব বেশি তবে মহিলারাও বৃদ্ধ বয়সে পারিবারিক কারনে টাক সমস্যায় ভূগতে পারেন। এর সাথে যদি মহিলাদের ব্রণ অথবা মাসিক এর সমস্যা থেকে থাকে তবে গাইনি (ওভারির সিস্ট - Ovarian Cyst) অথবা এন্ডক্রাইন (Endocrine) বিশেষজ্ঞ দেখাতে হবে।
চিকিৎসা: সাধারণত কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয়না, তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী % মিনক্সিডিল লোশন অথবা মিগ্রা ফিনাস্টেরাইড ট্যাবলেট সেবন করা যেতে পারে। টাক রোগকে যারা বড় সমস্যা হিসেবে দেখেন তাদের জন্য অবশ্য হেয়ার ইমপ্লান্টেশন (hair implantation) বা চুল প্রতিস্থাপন করে নেবার সুযোগ রয়েছে। পদ্ধতিতে মাথার যেসব জায়গায় চুল আছে সেখান থেকে চুল নিয়ে চুল না থাকা স্থানে প্রতিস্থাপন করা হয়। এটা স্থায়ী পদ্ধতি, এর কার্যকারীতাও অনেক আর খুব বেশী যে খরচ হয় তাও কিন্ত না।

^উপরে যেতে ক্লিক করুন