আর্সেনিক রোগীর লক্ষণসমূহ :
কোনো ব্যক্তির চুল, নখ ও চামড়া পরীক্ষা করলে বোঝা
যায় যে, সে আর্সেনিকে আক্রান্ত কিনা। তবে এক জনের শরীরে আর্সেনিকের লক্ষণ
প্রকাশ পেতে ৬ মাস থেকে ২০ বছর অথবা এর চেয়েও বেশী বছর সময় লাগে এবং তিনটি
পর্যায়ে লক্ষণ গুলো দেখা দেয় ।
প্রথম পর্যায়ে অল্প মাত্রায় আর্সেনিকে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে যে সব লক্ষণ দেখা দেয় তা হলো :
- রোগীর গায়ে (যেমন বুকে, পিঠে, পেটে) কালো দাগ দেখা দেয়। চামড়ার রং কালো হয়ে যায় বা ছোট ছোট কালো দাগ হয়।
- হাত ও পায়ের তালু শক্ত খস খসে হয়ে যায় ও ছোট ছোট শক্ত গুটি দেখা দিতে পারে। পরে কালো কালো দাগ হয়।
- গায়ের চামড়া মোটা ও খস খসে হয়ে যায়।
- বমি বমি ভাব এবং বমি হয়; পাতলা পায়খানা হয়।
- খাওয়া-দাওয়ায় অরুচি, রক্ত আমাশয়, মুখে ঘা ইত্যাদি দেখা দেয়।
- কখনো কখনো জিহবার উপর ও গায়ের ভিতর কালো হয়ে যেতে পারে।
- দ্বিতীয় পর্যায়ের লক্ষণ সমূহ :
- চামড়ার বিভিন্ন জায়গায় সাদা, কালো বা লাল দাগ দেখা দেয়।
- হাত-পায়ের তালু ফেটে যায় ও শক্ত গুটি ওঠে।
- হাত-পা ফুলে ওঠে।
আর্সেনিক সমস্যা ও প্রতিকার :
- কিডনি, লিভার ও ফুসফুস বড় হয়ে যায় ও টিউমার হয়।
- হাত ও পায়ে ঘা হয়, পচন ধরে।
- চামড়া, মূত্রথলি, ফুসফুসে ক্যান্সার হয়।
- কিডনি ও লিভার অকেজো হয়ে যায়।
- জন্ডিস হয়।
- পেটে ও মাথায় ব্যথা হয়।
- রক্ত বমি হয়।
আর্সেনিকে আক্রান্ত হলে করণীয় :
- আর্সেনিক রোগের উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তার অথবা স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মীর সাথে দেখা করতে হবে ও তাঁর পরামর্শ মেনে চলতে হবে।
- অবশ্যই আর্সেনিক মুক্ত পানি পান করতে হবে।
- নদী, পুকুর, বিল ইত্যাদির পানি ছেঁকে ২০ মিনিট ফুটিয়ে পান করা যায়।
- বর্ষা কালে বৃষ্টির পানি পান করা যেতে পারে, এ জন্য বৃষ্টি শুরু হওয়ার ৫ মিনিট পর পানি ধরতে হবে।
- আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগী সব ধরনের খাবার খেতে পারেন। তবে শাক-সবজি ও পুষ্টিকর খাবার বেশি করে খেতে হবে।
- আর্সেনিক দূষণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য করণীয়
- নলকূপ বসানোর আগে মাটির নিচের পানিতে আর্সেনিক মাত্রা পরীক্ষা করে দেখতে হবে;
- পুরানো নলকূপের পানিতে আর্সেনিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে, টিউবওয়েল বসানোর আগে আশে পাশের টিউবওয়েলের পানি পরীক্ষা করতে হবে;
- টিউবওয়েল বসানোর পর, গোড়া বাঁধানোর আগে আর্সেনিক পরীক্ষা করাতে হবে;
- টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিক পাওয়া গেলে টিউবওয়েলের মুখ লাল রং করতে হবে। পানিতে আর্সেনিক না থাকলে সবুজ রং করতে হবে। লাল রং দেখলে ঐ নলকূপের পানি খাওয়া যাবে না;
- আর্সেনিক দূষণ মুক্ত টিউবওয়েলের পানি প্রতি ৬ মাস পর পর পরীক্ষা করাতে হবে। দেখতে হবে পানি আর্সেনিক দূষণমুক্ত আছে কিনা;
- আর্সেনিক যুক্ত পানি রান্না ও খাওয়ার জন্য ব্যবহার করা যাবে না;
- পাত কুয়ার পানিতে আর্সেনিক আছে কিনা পরীক্ষা করে পান করতে হবে;
- পুকুর বা নদীর পানি বিশুদ্ধ করে পান করতে হবে। এজন্য এক কলসি (২০লিটার) পানিতে আধা চামচ (১০মিলিগ্রাম) ফিটকিরি মিশিয়ে ২-৩ ঘন্টা রেখে দিতে হবে। ফিটকিরি মিশালে পানির ময়লা কলসির নিচে জমা হবে। সাবধানে পাত্রের উপরের পরিস্কার পানি অন্য পাত্রে ঢেলে ফুটিয়ে পান করতে হবে;
- বৃষ্টির পানি আর্সেনিক মুক্ত। তাই বৃষ্টি শুরু হওয়ার ৫ মিনিট পর পরিস্কার পাত্রে ধরে সেই পানি খাওয়া ও রান্নার কাজে ব্যবহার করা যায়।
- আর্সেনিক যুক্ত পানি ফুটিয়ে খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে কারণ ফুটালে আর্সেনিক দূর হয় না বরং পানি শুকিয়ে গেলে তাতে আর্সেনিকের ঘনত্ব আরো বেরে যায়।