জন্মগত হৃদরোগ
জন্মের
সময়ই অনেক শিশু হৃদপিন্ডের সমস্যা নিয়ে জন্মায়, সহজ ভাবে বোঝানোর জন্য
চিকিৎসকগণ অনেক সময় একে শিশুর হার্ট এ ফুটা/ছিদ্র আছে এমন শব্দ ব্যবহার
করেন। এধরণের রোগ হলে শিশু জন্মের কিছুদিন পর থেকেই শ্বাস প্রশ্বাসের
সমস্যায় ভোগে এবং কেউ কেউ খাবার সময় বা কান্না করলে নীল/কালচে-নীল হয়ে
যায়। এরকম কয়েকটি রোগ এখানে আলোচনা করা হল।
এ,এস,ডি
একে এট্রিয়াল
সেপ্টাল ডিফেক্ট বলা হয়। হার্ট এর উপরের অংশের দুটি প্রকোষ্ঠের মাঝে একটি
অস্বাভাবিক ফুটো থাকার নামই এ,এস,ডি। এধরণের রোগ হলে শিশু জন্মের কিছুদিন
পর থেকেই শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যায় ভুগে এবং শিশুর বৃদ্ধি ও নিয়মিত
হয়না। এ,এস,ডি ছোটো হলে ২-৫ বছরের মধ্যে নিজে নিজেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বড় এ,এস,ডি
হলে অথবা নিজে নিজে বন্ধ না হলে অপারেশনের দ্বারা অথবা ক্যাথেটার করে
ডিভাইস ক্লোজার করা যায়। অনেক সময় পরিণত বয়স বা বার্ধক্যে এসে এই রোগটি
ধরা পড়ে। ইকোকার্ডিওগ্রাম পরীক্ষা দ্বারা এ,এস,ডি নির্ণয় করা যায়।
ভিএসডি
একে ভেন্ট্রিকুলার
সেপ্টাল ডিফেক্ট বলা হয়। হার্ট এর নীচের অংশের দুটি প্রকোষ্ঠের মাঝে একটি
অস্বাভাবিক ফুটো থাকার নামই ভি,এস,ডি। এধরণের রোগ হলেও শিশু জন্মের
কিছুদিন পর থেকেই শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যায় ভুগে, শিশুর বুক ধরফর
করে, খাবার রুচি থাকেনা এবং শিশুর বৃদ্ধি ও নিয়মিত হয়না। বিভিন্ন ধরণের
ভিএসডি আছে, খুব জটিল প্রকৃতির না হলে এটাও ২ বছরের মধ্যে নিজে নিজেই বন্ধ
হয়ে যেতে পারে। অধিকাংশ ভিএসডি ই অপারেশনের দ্বারা অথবা ক্যাথেটার করে
ডিভাইস ক্লোজার করে বন্ধ করতে হয়। এ,এস,ডির মত এই রোগটিও অনেক সময় পরিণত
বয়স বা বার্ধক্যে এসে ধরা পড়ে। ইকোকার্ডিওগ্রাম ভিএসডি নির্ণয়ের বেশ দিক
নির্দেশনাময় একটি পরীক্ষা।
টফ (টেট্রালজি অব ফেলট)
এটি বেশ
জটিল একটি জন্মগত রোগ। হার্ট এর আভ্যন্তরীন চারটি ত্রুটির সমন্বয়ে
এই রোগটি হয়। জন্মের সপ্তা দুয়েক পর থেকেই শিশুর শ্বাস কষ্ট দেখা দেয়
এবং খাবার সময় অথবা কান্না করলে শিশুটি নীল হয়ে যেতে থাকে। ক্রমান্বয়ে
এই লক্ষন গুলো বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিও ব্যাপক ব্যহত
হয়। মাঝে মাঝে হঠাৎ করেই সে নীল হয়ে যায়, তবে এই মুহুর্ত গুলোয়
মলত্যাগের ভঙ্গিমায় বসে থাকলে রোগীর আরাম হয়। ইকোকার্ডিওগ্রাম করে এই রোগ
নির্ণয় করা যায়, তবে কার্ডিয়াক ক্যাথেটার করাও বেশ জরুরী। অপারেশনই এই
রোগের একমাত্র চিকিৎসা। অপারেশন না করালে অধিকাংশ শিশু শৈশবেই জীবন হারাতে
পারে।
পি,ডি,এ
পুরো
নাম প্যাটেন্ট ডাক্টাস আর্টারিওসাস। ফুসফুসের ধমণীর সাথে মহাধমণীর (এওরটা)
অস্বাভাবিক সংযোগই পিডিএ। সাধারণত পূর্ণ পরিণত হবার আগেই যেসব শিশু
জন্ম গ্রহণ করে তদের এই রোগ বেশী হয়। অভিজ্ঞ চিকিৎসক রোগীকে পরীক্ষা করেই
রোগ নির্ণয় করতে পারেন। ইকোকার্ডিওগ্রাম দ্বারা এই রোগ সহজেই নির্ণয় করা
যায়। এটির আকার ছোটো হলে ক্যাথেটার দ্বারা ডিভাইস ক্লোজার, বড় হলে
সার্জারি করা লাগে।
হার্ট ফেইলুর (Heart Failure)
এটা হৃদপিন্ডের
এমন একটা অবস্থা যখন সে আর শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পাম্প করতে
পারেনা। যেহেতু এটা হওয়ার পেছনে বহু কারন আছে, হার্ট ফেইলুরকে তাই বিভিন্ন
ভাবে শ্রেনী বিন্যাস করা যায়। সাধারণত কোনো কারনে যদি শরীরে পানির পরিমান
বেড়ে যায় অথবা হার্ট এর উপর প্রেসার বেড়ে যায় অথবা হার্ট এর
মাংস পেশী কোনো কারনে ঠিকমতো কাজ না করে তাহলেই হার্ট পাম্প করতে ব্যর্থ
হয় বা ফেইলুর হয়।
ইকোকার্ডিওগ্রাম
এটা নির্ণয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। ভিন্ন ভিন্ন ধরনের হার্ট
ফেইলুর এর সাধারন কিছু চিকিৎসা এক হলেও এর প্রকৃত চিকিৎসা রোগের প্রকৃত
কারণের উপরই নির্ভরশীল।
ভাল্ভের রোগ (Valvular Disease)
হৃদপিন্ডের
ভাল্ভ এর কাজ অনেকটা দরজার মতো, এরা কেবল এক দিকে খোলে এবং এভাবে
হৃদপিন্ডের ভেতরে রক্ত কেবল এক দিকে প্রবাহিত হয়। ভাল্ভের রোগ হলে এই
একমুখি রক্ত প্রহাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়। হার্টে মোট ৪ টি ভাল্ভ রয়েছে। এর
মধ্যে মাইট্রাল ও এওরটিক ভাল্ভ দুটিই বেশী রোগাক্রান্ত হয় এবং তখন
সমস্যাগুলো ও প্রকট হয়। সেই তুলনায় ট্রাইকাসপিড বা পালমোনারি ভাল্ভ
রোগাক্রান্ত হবার সুযোগ অপেক্ষাকৃত অনেক কম এদের প্রকটতা ও কম।
মাইট্রাল ভাল্ভের রোগ
মাইট্রাল স্টেনোসিস (মাইট্রাল ভাল্ভ সরু হয়ে যাওয়া)
একজন
স্বাভাবিক পরিণত মানুষের মাইট্রাল ভাল্ভের ব্যাস ৪-৬ বর্গ সেন্টি- মিটার,
এটা কখনো ২ বর্গ সেন্টি-মিটার এর চেয়ে কমে আসলে তাকে মাইট্রাল স্টেনোসিস
বলা হয়। বলতে গেলে এর একমাত্র কারণ হলো রিউমেটিক ফিভার বা বাতজর। দুর্বল
লাগা, শ্বাস কষ্ট, কফ কাশি, কফের সাথে রক্ত যাওয়া, বুক ধরফর করা, পায়ে
পানি আসা ইত্যাদি এই রোগের লক্ষণ। ইকোকার্ডিওগ্রাম করে এটা নিশ্চিত করা
যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ ঔষধে নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও এক পর্যায়ে
ইন্টারভেনশন করে বেলুন ভাল্ভোপ্লাস্টি করতে হয়। তবে এই রোগের চুড়ান্ত বা
শেষ চিকিৎসা হলো সার্জারি করে ভাল্ভ বদলে ফেলা (ভাল্ভ রিপ্লেসমেন্ট)। ভাল্ভ
রিপ্লেসমেন্ট জটিল অপারেশন হলেও নিয়ম মেনে চললে এর পর রোগী চল্লিশ বছর
পর্যন্ত সুস্থ্য থাকতে পারে।
মাইট্রাল রিগারজিটেশন
মাইট্রাল
ভাল্ভ এর পাপড়ির মত কপাটিকা গুলো ঠিক মতো বন্ধ হতে না পারলেই তাকে
মাইট্রাল রিগার্জিটেশন বা মাইট্রাল ভাল্ভ প্রলাপ্স রোগ বলা হয়। হার্ট এর
মধ্যে রক্ত সবসময় এট্রিয়াম থেকে ভেন্ট্রিকল অর্থাৎ এক দিকে প্রবাহিত হয়।
এই রোগে কিছু রক্ত উলটো পথে চলে যায়। এর ফলে শ্বাস কষ্ট, কফ কাশি, কফের
সাথে রক্ত যাওয়া, বুক ধরফর করা, পায়ে পানি আসা ইত্যাদি উপসর্গ গুলো দেখা
দেয়। এই রোগ ও ইকোকার্ডিওগ্রাম করে নিশ্চিত করা যায়। বাতজর ছাড়াও অন্য
রোগের জটিলতা হিসেবে এই রোগ হতে পারে। সার্জারিই এই রোগের একমাত্র চুড়ান্ত
চিকিৎসা।
এওরটিক ভালভের রোগ
এওরটিক স্টেনোসিস
এর
অর্থ এওরটিক ভাল্ভ সরু হয়ে যাওয়া। এই রোগ হলে হৃদপিন্ড থেকে ধমণীতে রক্ত
চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। একজন স্বাভাবিক পরিণত মানুষের এওরটিক ভাল্ভের
ব্যাস ২-৪ বর্গ সেন্টি মিটার, এটা কখনো ০.৮ বর্গ সেন্টি মিটার এর চেয়ে কমে
আসলে তাকে এওরটিক স্টেনোসিস বলা হয়। এর প্রধান কারণ হলো ভাল্ভের গায়ে
ক্যালসিয়াম জমা, এছাড়া জন্মগত কিছু ত্রুটি এবং রিউমেটিক ফিভার বা বাতজর ও
এর কারণ হিসেবে পরিচিত। অল্প একটু পরিশ্রম করলেই শ্বাস কষ্ট হওয়া বা বুকে
ব্যথা হওয়া, হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলা ইত্যাদি এই রোগের লক্ষণ। এই রোগে
এমনকি হঠাৎ করেও কারো মৃত্যু হতে পারে, তাই রোগ নির্ণয় এর পর রোগীকে
অবশ্যই বিশ্রামে থাকতে হবে। ইকোকার্ডিওগ্রাম করে এই রোগের উপস্থিতি নিশ্চিত
করা যায়। উপসর্গ দেখা দিলে সার্জারি করে ভাল্ভ বদলানোই (ভাল্ভ
রিপ্লেসমেন্ট) এই রোগের একমাত্র চিকিৎসা। ভাল্ভ রিপ্লেসমেন্ট এর পর নিয়ম
মানলে রোগী অনেক বছর ভালো থাকতে পারে।
এওরটিক রিগারজিটেশন
এওরটিক
ভাল্ভ এর পাপড়ির ন্যায় কাস্প গুলো কোনো কারণে একই সাথে বন্ধ হতে না
পারাটাই এওরটিক রিগার্জিটেশন। এর ফলে হৃদপিন্ড থেকে পাম্প করে পাঠানো রক্ত
ধমণী থেকে আবার হৃদপিন্ডে ফিরে আসে। ভাল্ভে ক্যালসিয়াম জমা, রিউম্যাটিক
রোগ, জন্মগত ত্রুটি, কিছু প্রদাহ জনিত রোগ, ব্যাক্টেরিয়াল এন্ডকার্ডাইটিস
সহ এই রোগের বহুবিধ কারন রয়েছে। এওরটিক স্টেনোসিস এর মতই পরিশ্রম করলে
শ্বাস কষ্ট হওয়া বা বুকে ব্যথা হওয়া, হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলা ইত্যাদি এই
রোগের লক্ষন। এই রোগের উপস্থিতি ও ইকোকার্ডিওগ্রাম করে নিশ্চিত করা হয়।
উপসর্গ দেখা দিলে সার্জারি করে ভাল্ভ বদলানোই (ভাল্ভ রিপ্লেসমেন্ট) এই
রোগের একমাত্র চিকিৎসা। ভাল্ভ রিপ্লেসমেন্ট এর পর নিয়ম মানলে রোগী অনেক
বছর ভালো থাকতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ জনিত রোগ (হাইপারটেনশন)
ব্লাড প্রেসার (Blood pressure)
নামে অতিপরিচিত রোগটিই আসলে হাইপারটেনশন। হাইপারটেনশন রোগটি সকলের না
থাকলেও সুস্থ্য অসুস্থ প্রতিটি মানুষেরই ব্লাড প্রেসার থাকে, আসলে হৃদপিন্ড
রক্তকে ধাক্কা দিয়ে ধমনীতে পাঠালে ধমণীর গায়ে যে প্রেসার বা চাপ সৃষ্টি
হয় তাই হলো ব্লাড প্রেসার। এই চাপ এর একটি স্বাভাবিক মাত্রা আছে আর যখন তা
স্বাভাবিক মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তখনি তাকে বলা হয় হাইপারটেনশন (Hypertension) বা উচ্চ রক্তচাপ।
স্বাভাবিক প্রেসারঃ
ধরে নেয়া হয় পূর্ণ বিশ্রামে থাকা একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তের
চাপ বা ব্লাড প্রেসার হবে ১২০/৮০ মিলি মিটার পারদ চাপ। এক্ষেত্রে ১ম
সংখাটি (১২০) দ্বারা হার্ট এর সংকোচনের সময় ধমণীর ব্লাড প্রেসার এবং ২য়
সংখাটি দ্বারা হার্ট এর প্রসারণের সময়ে ধমণীর ব্লাড প্রেসার কে নির্দেশ
করা হয়। এই ১ম প্রেসার সংখাটি যা সিস্টোলিক প্রেসার নামে ডাকা হয় সবসময়ই
২য় টি থেকে বেশি এবং এর স্বাভাবিক মাত্রা ১৪০ মি.মি এর নীচে এবং ৯০
মি.মি এর উর্ধে । অন্য দিকে ২য় প্রেসার সংখাটি কে ডায়াস্টোলিক প্রেসার
ডাকা হয় এবং এর স্বাভাবিক মাত্রা ৯০ মি.মি এর নীচে এবং ৬০ মি.মি এর
উর্ধ্বে। তাই যখন উপড়ের প্রেসার টি ১৪০ বা তার উর্ধ্বে অথবা নীচের প্রেসার
টি ৯০ বা তার উর্ধ্বে পাওয়া যায় তখন ধরে নিতে হবে রোগীর ব্লাড প্রেসার
স্বাভাবিক এর উর্ধ্বে অর্থাৎ তিনি উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন রোগে
ভূগছেন। তবে বয়সের উপর ভিত্তি করে এই মাত্রার কিছুটা তারতম্য হতে পারে।
রোগের কারণঃ হাইপারটেনশন
রোগের শতকরা ৯৫ ভাগ কারনই বলতে গেলে এখনো সঠিকভাবে জানা হয়ে উঠেনি এবং
একে বলা হয় এসেনশিয়াল হাইপারটেনশন, বাকী ৫% হলো সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন
এর মধ্যে কিছু আছে কিডনির রোগ, কিছু হরমোনের সমস্যা জনিত রোগ তাছাড়া ধমনীর
রোগ, অসুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং গর্ভাবস্থা ও এর জন্য দায়ী হতে
পারে।
লক্ষনঃ
রোগের প্রাথমিক অবস্থায় অনেক সময়ই রোগীর কোনো অভিযোগ থাকেনা। তবে কিছু
রোগী মাথার পিছনের দিকে ব্যাথা, বেশী প্রসাব হওয়া, হঠাৎ হঠাৎ ঘেমে
যাওয়া, বুক ধড়ফর করা ইত্যাদি উপসর্গ অনুভব করতে পারে। ব্লাড প্রেসার খুব
বেশী হলে উপসর্গ ও বৃদ্ধি পেতে পারে। দীর্ঘ দিন ব্লাড প্রেসার অনিয়ন্ত্রিত
থাকলে তা বিভিন্ন গুরুত্ব পূর্ণ অংগের স্থায়ী ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে
এবং সেই জাতীয় সমস্যা নিয়েও রোগী অসুস্থ্য হতে পারেন।
রোগ নির্ণয়ঃ
ব্লাড প্রেসার মাপার যন্ত্র দিয়ে মাপলে কারো প্রেসার যদি বেশি পাওয়া
যায় সেটাই হাইপারটেনশন নির্ণয় করার জন্য যথেস্ট। তবে দীর্ঘ দিন
অনিয়ন্ত্রিত হাইপারটেনশন বিভিন্ন গুরুত্ব পূর্ণ অংগের ক্ষতির কারণ হয়ে
থাকলে সেসকল অংগের কার্যকারীতা দেখার পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।
জটিলতাঃ অনিয়ন্ত্রিত হাইপারটেনশন ষ্ট্রোক, এনকেফালোপ্যাথি, চোখের রেটিনার প্রভুত ক্ষতি সাধন ও অন্ধত্ব, হৃদপিন্ডের দেয়ালের পুরুত্ব বাড়ানো, হার্ট এটাক ও হার্ট ফেইলুর,কিডনী ফেইলুর সহ বিভিন্ন জটিল জটিল রোগের কারণ হতে পারে।
চিকিৎসাঃ হাইপারটেনশন চিকিৎসার প্রথম স্তরটিই হলো জীবনযাত্রার ধারা পরিবর্তন (lifestyle modification) করা। এর মধ্যে আছে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন
করা- যেমন খাবারে লবনের পরিমান কমিয়ে আনা, আতিরিক্ত শর্করা বা
চর্বি জাতীয় খাবার না খাওয়া, ধুমপান বা এলকোহলের অভ্যাস থাকলে তা
সম্পুর্ণ রুপে ত্যাগ করা, শরীরের বাড়তি ওজন কমানো, ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রন করা, নিয়মিত হাল্কা শরীরচর্চা করা, উপাসনা বা প্রার্থনা করা ইত্যাদি। অনেক সময় শুধু এইসব পরামর্শ মেনে
চলার মাধ্যমেই হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রন করা যায়। এর পরেও যদি নিয়ন্ত্রন
করা না যায় সেক্ষেত্রে কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শঅনুযায়ী অসুধ খাওয়া লাগতে
পারে। কার্ডিওলজিস্টগণ সাধারনত ডায়েরুটিক্স, বিটা ব্লকার, ক্যালসিয়াম
চ্যানেল ব্লকার, এসিই ইনহিবিটর, এআরবি ব্লকার, আলফা ব্লকার বা মস্তিস্কের
কেন্দ্রে কাজ করে প্রেসার কমানোর এমন অসুধ গুলো বিভিন্ন মাত্রায় রোগীর
অবস্থা অনুযায়ী ব্যবহার করে উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রন করেন।
উচ্চ রক্তচাপ/ হাইপারটেনশন এর রোগীদের জন্য পরামর্শ
১. উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রনে রাখুন।
২. পরামর্শ পত্রে প্রদত্ত অসুধ নিয়মিত সেবন করুন।
৩. প্রতিদিন হাটুন অথবা ব্যায়াম করুন, ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখুন।
৪. ধুমপান, জর্দা, তামাক পাতা, গুল পরিহার করুন।
৫. দুঃশ্চিন্তা মুক্ত থাকুন।
৬. ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগ থাকলে তার চিকিৎসা করুন ও নিয়ন্ত্রনে রাখুন।
খাদ্য নির্দেশনাঃ
১-বাদ দিতে হবেঃ
কোলেস্টেরলযুক্ত এবং সমৃদ্ধ চর্বি (saturated fat)
যুক্ত খাবার যেমন - ডিমের কুসুম, কলিজা, মাছের ডিম, খাসি বা গরুর
চর্বিযুক্ত মাংস, হাস-মুরগীর চামড়া, হাড়ের
মজ্জা, ঘি, মাখন, ডালডা,মার্জারিন, গলদা চিংড়ি, নারিকেল এবং উল্লেখিত এসব
দ্বারা তৈরী খাবার।
২- বেশী করে খেতে হবেঃ
আঁশ
যুক্ত খাবার - যেমন সবধরনের শাক, সবজি-বিশেষত খোসা সহ সবজি যেমন
ঢেড়স, বরবটি, সিম ইত্যাদি, সব ধরনের ডাল, টক জাতীয় ফল বা খোসা সহ ফল
ইত্যাদি। উপকারী চর্বি ও অসম্পৃক্ত চর্বি (unsaturated fat)
জাতীয় খাবার বেশী করে খেতে হবে- যেমন সব ধরনের সামুদ্রিক মাছ, ছোটো
মাছ, উদ্ভিজ তেল (কর্ণ অয়েল, সানফ্লাওয়ার অয়েল,সয়াবিন অয়েল, সরিষার
তেল ইত্যাদি)।
৩-হিসাব করে খেতে হবেঃ
শর্করা জাতীয় খাবার যেমন ভাত, আলু, রুটি ইত্যাদি।
মিষ্টি জাতীয় ফল যেমন পাকা আম, পাকা পেপে, পাকা কলা ইত্যাদি।
দুধ ও দুধের তৈরী খাবার।
অতিরিক্ত লবন খাওয়া যাবেনা, পাতে লবন ও নোনতা খাবার পরিহার করতে হবে।
৪- খাওয়া যাবেনাঃ
বিভিন্ন ধরনের ফাস্ট ফুড (fast food), কেক, পুডিং, আইসক্রিম,বোতল জাত কোমল পানীয় ইত্যাদি।
এছাড়া কোনো রোগীর যদি ডায়াবেটিস থেকে থাকে তাহলে তাকে ডায়াবেটিসের খাদ্য তালিকাও এর সাথে মেনে চলতে হবে।
হৃদরোগ সংক্রান্ত কিছু সাধারণ উপদেশ
হৃদরোগ সংক্রান্ত কিছু সাধারণ উপদেশ নীচে দেওয়া হল -
· সকল প্রকার তামাক এবং তামাকজাত দ্রব্য গ্রহন থেকে বিরত থাকুন।
· অতিরিক্ত তেল অথবা চর্বি যুক্ত খাবার গ্রহন থেকে বিরত থাকুন,স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহন করুন।
· আপনার খাদ্য তালিকায় তাজা শাকসব্জি এবং ফল অন্তর্ভুক্ত করুন।
· তরকারিতে পরিমিত লবন খান, খাবারে বাড়তি লবন মিশিয়ে খাওয়া বন্ধ করুন।
· চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার যত সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
· ঘাম ঝরানো শারীরিক পরিশ্রম করুন, হাটার সময় দ্রুত হাটুন। সব সময় লিফট ব্যবহার না করে যতদুর সম্ভব সিড়ি বেয়ে উঠার অভ্যাস করুন।
· উচ্চরক্তচাপ বা হাইপারটেনশন (ব্লাড প্রেসার) এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখুন।
· শরীরের বাড়তি ওজন কমিয়ে ফেলুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করুন।
· রক্তে
কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত রাখুন, লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষাটি করে
জেনে নিন আপনার রক্তে কোন ধরনের চর্বি বেশী আছে, সেই অনুযায়ী চিকিৎসা নিন
এবং খাদ্য তালিকা তৈরী করুন।
· যাদের
বাবা/মা বা বড় ভাই বোন দের (পারিবারিক) হৃদরোগ আছে তারা অতিরিক্ত
সাবধানতা অবলম্বন করুন এবং নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তের চর্বি, ডায়াবেটিস
পরীক্ষা করে নিজের অবস্থান জেনে নিন।
· মানসিক
চাপ থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন, মানসিক চাপ হৃদরোগ ঘটায়। সৃষ্টিকর্তার
উদ্দেশ্যে দৈনিক নিয়মিত প্রার্থনা করু্ন। সম্ভব হলে মেডিটেশন করে দেখতে
পারেন।
· দৈনিক
অল্প কিছু সময় শিশু এবং বয়োবৃদ্ধদের সাথে কাটানোর চেষ্টা করুন, বন্ধুদের
সাথে প্রানখোলা আড্ডা মানসিক প্রশান্তি আনতে পারে। সব সময় হাসি খুশী
থাকবার চেষ্টা করুন।
· দৈনিক পরিমিত নিদ্রা গ্রহন করুন, লক্ষ্য রাখুন আপনার দৈনন্দিন জীবনে যেন যথেষ্ট বিশ্রাম এবং বিনোদনের সূযোগ থাকে।
· ছোট শিশুদের গলা ব্যথা হলে বা বাতজ্বর হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
· করোনারি
বা অন্যান্য জটিল হৃদরোগ হবার সুনির্দিষ্ট কোন বয়স নেই, তাই সব বয়সেই
হার্টের যন্ত নেবার প্রতি সচেষ্ট হন। সন্দেহ হলে চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হোন।
ইশকেমিক (Ischaemic) হার্ট ডিজিজ
হার্ট
ব্লক হয়েছে বললেই আমাদের মনে যে রোগটির ছবি ফুটে উঠে তা হলো আসলে ইশকেমিক
ডিজিজ। হার্ট ব্লক নামক প্রচলিত শব্দটি কিন্ত এই রোগের ক্ষেত্রে ভুল
নামকরণের শিকার, কারণ হার্ট ব্লক নামে সত্যিই একটি হৃদ রোগ আছে যার সাথে এই
রোগের মিল খুব সামান্যই। তবে হার্ট এর ধমণী তে ব্লক (করোনারি আরটারী
স্টেনোসিস) হয়েছে বললে সেটা কিন্ত এই রোগটিকেই বোঝায়। তাই পাঠক এই
ক্ষেত্রে একটু যত্নবান হবেন বলে আশা রাখবো। মেডিকেল পরিভাষায় একে করোনারি
আর্টারি ডিজিজ বলা হয়।
ধমণীর ব্লক কীঃ হৃদপিন্ড
শরীরের সর্বত্র রক্ত সরবরাহ করে, এই প্রবাহিত রক্তের কাজ খুব সহজ করে বললে
হবে সর্বত্র পুষ্টির যোগান দেয়া। হৃদপিন্ডের নিজেরও পুষ্টির প্রয়োজন আছে
আর তা আসে মোটামুটি মাঝারী মাপের তিনটি ধমণীর সাহায্যে। এদের নাম যথাক্রমে
ডান পাশে আর,সি,এ (রাইট করোনারি আরটারি), মাঝে এল,এ,ডি (লেফট এন্টেরিয়র
ডিসেন্ডিং), এবং যেটি হৃদপিন্ড কে ঘুড়ে আসে তার নাম এল,সি,এক্স (লেফট
সারকামফ্লেক্স) আরটারি। কোনো কারণে যদি এসব ধমণী সরু হয়ে যায় বা বন্ধ
হয়ে যায় তাহলে করোনারি আরটারীর স্টেনোসিস হয়েছে বা ব্লক হয়েছে শব্দ
দুটি ব্যবহৃত হয়। সাধারণত ধমণীর গায়ে চর্বি জমে তা ক্রমান্বয়ে সরু হতে
থাকে। এটা যদি শতকরা ৫০ ভাগ এর বেশি হয়ে যায় সেক্ষেত্রে হৃদপিন্ডের রক্ত
প্রবাহ মাত্রাতিরিক্ত কমে যেতে থাকে এবং রোগী সামান্য পরিশ্রমেই বুকে ব্যথা
অনুভব করতে পারেন।
হার্ট এটাক / এমআই / স্ট্রোকঃ হার্ট
এটাক রোগটিকে ভুলবশত স্ট্রোক বলা হয়ে থাকে। স্ট্রোক মস্তিস্কের রক্তক্ষরণ
জাতীয় রোগ আর হার্ট এটাক হৃদপিন্ডের একটি রোগ, যার মেডিকেল পরিভাষা হল
মায়কার্ডিয়াল ইনফার্কশন, ছোট্ট করে একে বলা হয় এম,আই। হার্ট এর ধমণী
গুলো সরু হয়ে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে রক্ত প্রবাহ আশংকা জনক হারে কমে যায়
এবং হার্টের কোষ গুলো মৃত্যু বা ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়- এর ই নাম
ইশকেমিয়া। কেতাবী নাম মায়কার্ডিয়াল ইশকেমিয়া। ইশকেমিয়া হলে বুকে তীব্র
চাপ ও ব্যাথা অনুভুত হয় তখন এই সমস্যাটিকে বলে এনজাইনা পেক্টোরিস।
এনজাইনা শব্দের বাংলা অর্থ ব্যাথা আর পেক্টরিস এর অর্থ বুক। যদি ইশকেমিয়া
চলতেই থাকে তবে হার্ট এর কোষ গুলো একসময় মারা যায়, এই অবস্থাটির নামই
মায়কার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা এম,আই- যা আমরা প্রচলিত অর্থে হার্ট এটাক
হিসেবে চিনি।
লক্ষনঃ ইশকেমিয়া
হলে রোগীর বুকের বাম দিকে প্রচন্ড ব্যাথা বা এনজাইনা হয় এবং রোগী বুকে
তীব্র চাপ অনুভব করে। অনেক রোগীই অভিযোগ করে যে তার বুকের উপর ভীষন ভারী
একটা কিছু চেপে বসে আছে। ব্যাথার তীব্রতা বুকে বেশী থাকলেও এটা বুক থেকে
গলা, গাল, মাড়ি, কান, বাম হাত এবং আশে পাশে ছড়িয়ে পরতে পারে। একে
রেফার্ড পেইন বলা হয়। বুকের ব্যাথা ১ থেকে ৩ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে
পারে, তবে এটা কখনই ৩০ সেকেন্ড সময়ের কম দৈর্ঘের হয়না। আবার ১৫ মিনিটের
বেশী স্থায়ী হওয়ার নজিরও খুব কম। এনজাইনা বা ব্যাথা শুরু হয় সাধারণত
কোনো একটা পরিশ্রমের কাজ করার সময় যেমন দৌড়ানো বা জোরে হাটা ইত্যাদি। তবে
পেট ভরে খাবার খাওয়া, যৌন ক্রিয়া এমনকি হঠাৎ রেগে যাওয়া বা উত্তেজিত
হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ও এনজাইনা শুরু হয়ে যেতে পারে। ব্যাথার সাথে রোগীর
অন্য উপসর্গ যেমন শ্বাসকষ্ট, পেট ফাপা লাগা, অস্থির লাগা, বুক ধড়ফর করা
ইত্যাদিও থাকতে পারে। পরিশ্রম বন্ধ করে বিশ্রাম নিলে এই ব্যথা সাথে সাথে
সাময়িক ভাবে কমে যেতে পারে।
রোগ নির্ণয়ঃ বুকের
ব্যাথার কারণ হিসেবে এনজাইনা বা এম,আই সন্দেহ হলে প্রথম যে পরীক্ষাটি করা
হয় তা হলো একটি ১২ লিডের ইসিজি। ব্যাথার শুরুর দিকে ইসিজি স্বাভাবিক ও
আসতে পারে, এজন্য পর্যায়ক্রমে বেশ কয়েকবার ইসিজি করা লাগতে পারে। এর পর ও
যদি ইসিজি স্বাভাবিক আসে এবং এনজাইনা হবার সন্দেহ থাকে সেক্ষেত্রে
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে হার্ট এর এনজাইম এর মাত্রা দেখে
এই রোগ নিশ্চিত করেন। প্রধানত ট্রপনিন আই এবং সি,কে,এম,বি এনজাইম দুটো দেখা
হয়, এছাড়া অন্য এনজাইম ও দেখার প্রয়োজন হতে পারে। এনজাইনা বা এম,আই এর
কারণ জানার চুড়ান্ত পরীক্ষা হলো এনজিওগ্রাম করা। সিটি স্ক্যান করে (সিটি
এনজিওগ্রাম) অথবা পা কিংবা হাতের ধমনীতে বিশেষ ধরনের ক্যাথেটার প্রবেশ
করিয়ে- দুভাবেই এনজিওগ্রাম করা যায়। তবে শেষের পদ্ধতিই বেশী কার্যকর।
কোনো কোনো রোগী আছেন যাদের মাঝে মাঝে কাজের মধ্যে বুকে ব্যাথা হয় কিন্ত
স্বাভাবিক অবস্থায় হয়না এবং ইসিজি করলেও ধরা পড়েনা তাদের ক্ষেত্রে
স্ট্রেস টেস্ট বা ইটিটি পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করতে হয়।
চিকিৎসাঃ করোনারি
আর্টারি ডিজিজ বা ইশকেমিক হার্ট ডিজিজ এর চিকিৎসা অবশ্যই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ
(কার্ডিওলজিস্ট) এর তত্ত্বাবধানে করা উচিত। এর কোনো বিকল্প নেই। কারণ কেবল
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞই রোগীর সঠিক অবস্থা বিবেচনা করে আদর্শ চিকিৎসা দিতে পারেন।
সহজ করে বললে এনজাইনা জাতীয় রোগে তারা প্রথমেই যে ঔষুধ গুলো দিয়ে থাকেন
তার মধ্যে একটি হলো নাইট্রোগ্লিসারিন যা স্প্রে করে, শিরায় অথবা ট্যাবলেট
হিসেবেও দেয়া হয়। এছাড়াও রক্তের প্লাটেলেট বিরোধী এসপিরিন বা
ক্লোপিডোগ্রেল, উচ্চরক্ত চাপ নিয়ন্ত্রনের অসুধ, মরফিন জাতীয় শক্তিশালী
ব্যাথা নাশক এবং রক্ত তরলকারি হেপারিন বা ইনোক্সাপারিন ও দেয়া হয়।
কার্ডিওলজিস্ট অনেক সময় রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে রক্ত তরলকারি ইনজেকশন
স্ট্রেপটোকাইনেজ বা এল্টেপ্ল্যাজ জাতীয় অসুধ ও ব্যবহার করে থাকেন। তবে
ইশকেমিক হার্ট ডিজিজ এর চুড়ান্ত চিকিৎসা হলো প্রথমে এনজিওগ্রাম করে কোন
ধমনীতে স্টেনোসিস আছে তা নির্ণয় করা এবং সেই অনুযায়ী এনজিওপ্লাস্টি করা
বা ব্লক সরিয়ে সে স্থানে স্টেন্ট বসিয়ে দেয়া(যা প্রচলিত আছে রিং পরানো
নামে)। অনেক সময়ই স্টেন্ট বসানো সম্ভব হয়না অথবা যৌক্তিক হয়না
সেক্ষেত্রে অবশ্যই সিএবিজি বা বাইপাস অপারেশন (প্রকৃত নাম CABG- Coronary Artery Bypass Graft) করে রোগীর স্থায়ী রোগ মুক্তি ঘটান হয়।
হার্ট ব্লক (Heart Block)
হৃদপিন্ড মাংস পেশী দারা তৈরি একটি পাম্প যার কাজ বিরামহীন রক্ত পাম্প করে যাওয়া। সাধারন পানির পাম্পের মতো এই হৃদপিন্ডও বৈদ্যুতিক শক্তিতে চলে, পার্থক্য এই যে এর বৈদ্যুতিক জেনারেটরটি এর ভেতরেই থাকে এবং তা হৃদপিন্ড এর কোষ দিয়েই তৈরী। বৈদ্যুতিক তারের মতো এক ধরণের টিস্যু বা কলা দিয়ে হার্ট ঐ জেনারেটরের সাথে সমস্ত কোষের সংযোগ ঘটিয়ে থাকে।
এই টিস্যুর নাম কন্ডাক্টিং টিস্যু (conducting tissue) এবং
কোথাও যদি এই টিস্যু বাধাপ্রাপ্ত হয় বা নষ্ট হয়ে যায় তাহলে এর পরবর্তী
অংশে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারেনা আর একেই বলে হার্ট ব্লক (Heart block)। হার্ট ব্লক তিন প্রকার, ফার্স্ট ডিগ্রী, সেকেন্ড ডিগ্রী ও থার্ড ডিগ্রী। শেষের দুই প্রকার হার্ট ফেইলুর এ হার্ট এর ভেতর পেস মেকার বসানো লাগতে পারেহাসপাতাল ত্যাগের পর হার্ট এটাক রোগীদের জন্য পরামর্শ
- বিশ্রাম
চার থেকে ছয় সপ্তাহ, ক্রমান্বয়ে হাল্কা থেকে স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করতে হবে। প্রথম সপ্তাহে শুধু বাসায় বসে ছোটোখাটো কাজ করা যাবে সেই সাথে ঘরের মধ্যে হাটা চলা করতে হবে। ২য় ও ৩য় সপ্তাহে হাটার পরিধি ও সময় বাড়াতে হবে, অন্য কোনো অসুবিধা না থাকলে ৬ সপ্তাহে আধা ঘন্টা থেকে ১ ঘন্টা হাটার চেষ্টা করতে হবে। ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম সপ্তাহে স্বাভাবিক কর্মস্থল বা অফিসের কাজ শুরু করা যাবে।
এ সময় গাড়ী চালানোর মত কাজ করা গেলেও ভারী কাজ ও অনভ্যস্ত কায়িক পরিশ্রম সবসময় পরিহার করতে হবে।
- সহবাস
প্রথম দিকে সহবাস (Sex) নিষিদ্ধ। যখন বিনা ক্লান্তিতে আধা মাইল পরিমান হাটা সম্ভব বা দুইতলা সিঁড়ি বেয়ে বিনা ক্লান্তিতে উঠা সম্ভব তখন সহবাস শুরু করা যাবে। সব কিছু স্বাভাবিক থাকলে অপারেশনের ৬-৮ সপ্তাহ পরে বিশেষ অবস্থানে সুবিধামতো সহবাস করা যাবে। ভরা পেটে বা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ অবস্থায় সহবাস করা যাবেনা।
- শরীরের ওজন সবসময় নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে, বাড়তি ওজন থাকলে তা কমিয়ে ফেলতে হবে।
- চর্বি সমৃদ্ধ খাবার বর্জন করতে হবে।
- ধুমপান, তামাক, জর্দা জাতীয় দ্রব্য চিরতরে পরিহার করতে হবে।
- দুশ্চিন্তা বা টেনশন করার অভ্যাস নিয়ন্ত্রন বা পরিহার করতে চেষ্টা করে যেতে হবে।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত কোনো অসুধ বন্ধ করা বা নতুন অসুধ শুরু করা যাবেনা।
- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রনে রাখতে সচেষ্ট হতে হবে।
- চিকিৎসক পরামর্শ দিয়ে থাকলে নির্দিষ্ট সময়ে এনজিওগ্রাম, বাইপাস সার্জারি বা স্টেন্টিং করিয়ে নিতে হবে।
বাইপাস অপারেশন (CABG) করা রোগীদের জন্য পরামর্শ
১. অপারেশন পরবর্তী সময়ে সার্জন এর পরামর্শ অনুযায়ি নির্দিষ্ট পরিমান পানি পান করতে হবে, অতিরিক্ত পানি বা তরল জাতীয় খাদ্য গ্রহন করা যাবেনা।
২. পরামর্শ পত্র অনুযায়ী অবশ্যই নিয়মিত অসুধ সেবন করতে হবে।
৩. অপারেশনের ৩/৪ দিন পর থেকে হাটতে পারবেন। একবারে বেশী হাটা যাবেনা, ক্লান্ত হবার আগেই বিশ্রাম নিন। আহারের পরপরই হাটাহাটি করা যাবেনা।
৪.
এক সপ্তাহ পর পর হাটার সময় বাড়াবেন। অপারেশনের ৬ সপ্তাহ পর অন্য কোনো
অসুবিধা না থাকলে দিনে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘন্টা পরিমান হাটার চেষ্টা করুন।
ক্লান্ত হলে সাথে সাথে বিশ্রাম নিন, ধীরে ধীরে সিড়ি ভাঙ্গার চেষ্টা করতে পারেন।
৫. ভারী পরিশ্রম পরিহার করুন, টিউবওয়েল চাপা যাবেনা, তিন
কিলোগ্রামের বেশী ওজন বহন করা থেকে বিরত থাকুন। সংসারের হাল্কা কাজ করা
যেতে পারে। অপারেশন পরবর্তী প্রথম ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ এই নিয়ম মেনে চলতে হবে।
৬. ওজন নিয়ন্ত্রনের ব্যপারে সতর্ক থাকুন।
৭. ধুমপান, জর্দা, তামাক পাতা, গুল জাতীয় পদার্থ চিরতরে পরিহার করুন।
৮. অপারশনের পর পর প্রথম দিকে সহবাস (Sex) থেকে বিরত থাকুন, যখন
বিনা ক্লান্তিতে ১ থেক ২ মাইল পথ হাটতে পারবেন অথবা দুইতালা সিড়ি ভাঙ্গতে
পারবেন তখন সহবাস শুরু করতে পারবেন। সব কিছু স্বাভাবিক থাকলে সাধারনত অপারশনের
৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পরে সহবাসের আসন পরিবর্তন করে সুবিধা মত নিয়মে সহবাস শুরু
করা যায়। তবে খাবার পর পর বা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ অবস্থায় সহবাস করা উচিত
হবেনা।
৯. বুকে চাপ বা ব্যথা অনুভব করলে অথবা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত জিহবার নীচে জিটিএন স্প্রে (GTN spray) ব্যবহার করুন এবং সাথে সাথে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
খাদ্য নির্দেশনাঃ
বাইপাস করা রোগীদের খাদ্য তালিকা করোনারি রোগীদের খাদ্য তালিকার অনুরুপ।
পরিহার করতে হবেঃ
কোলেস্টেরলসমৃদ্ধ ও সম্পৃক্ত চর্বি (saturated fat) যুক্ত খাবার, যেমন -ডিমের কুসুম, কলিজা, মাছের ডিম, খাসি বা গরুর চর্বিযুক্ত মাংস, হাস-মুরগির চামড়া, হাড়ের মজ্জা, ঘি, মাখন, ডালডা, মার্জারিন, গলদা চিংড়ি, নারিকেল এবং উপরোক্ত উপকরণ দিয়ে তৈরী খাবার।
বেশী করে খেতে হবেঃ
আঁশ যুক্ত খাবার, যেমন সব রকমের শাক, সব রকমের সবজি (বিশেষ করে খোসা সহ সবজি যেমন ঢেড়স, বরবটি, শিম, কচুর লতি ইত্যাদি) , সব রকমের ডাল, সব ধরনের ফল বিশেষ করে টক জাতীয় ফল। সব রকমের সমুদ্রের মাছ, ছোটো মাছ, মাছের তেল। সব রকমের উদ্ভিজ তেল, যেমন কর্ণ অয়েল, সানফ্লাওয়ার অয়েল, সয়াবিন অয়েল (পাম বা নারিকেল তেল নয়)।
হিসাব করে খেতে হবেঃ
শর্করা জাতীয় খাবার যেমন ভাত, রুটি, আলু, চিনি ইত্যাদি। মিষ্টি ফল যেমন পাকা আম, পাকা কলা, পাকা পেপে ইত্যাদি। দুধ ও দুধের তৈরী খাবার।
পরিহার করতে হবেঃ
বিভিন্ন ধরনের ফাস্ট ফুড (Fast food), যেমন বার্গার, স্যান্ডউয়িচ, কেক, পুডিং, আইসক্রিম, বোতলজাত কোমল পানিয় ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে এলকোহল বা তামাক জাতীয় দ্রব্য কোনো খাদ্য নয়, তাই এইসব পদার্থ থেকে যেকোনো মুল্যে দূরে থাকতে হবে।
ডায়াবেটিস রোগে
আক্রান্ত রোগীরা তাদের জন্য নির্ধারিত খাদ্য তালিকা দেখে উপড়ের তালিকার
সঙ্গে মিলিয়ে খাদ্য তালিকা তৈরী করে নিতে পারেন। রক্তে সুগার বেড়ে যায় এমন
যেকোনো খাবার হৃদরোগের জন্যও পরিহার করা আবশ্যকিয়।
এনজিওপ্লাস্টি (PTCA) করা রোগীদের জন্য পরামর্শ
১- পরামর্শ পত্রে প্রদত্ত অসুধ অবশ্যই নিয়মিত সেবন করতে হবে।
২- ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে।
৩- চর্বি জাতীয় খাবার কম খেতে হবে।
৪- ধুমপান, জর্দা, তামাকপাতা, গুল ইত্যাদি দ্রব্য ব্যবহার চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
৫- বুকে চাপ বা ব্যথা অনুভব হলে বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত হৃদরোগ হাসপাতালের বহিঃবিভাগে দেখা করুন অথবা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
৬-
এনজিওপ্লাস্টি করার প্রথম সপ্তাহে বিশ্রামে থাকতে হবে। পরবর্তীতে প্রতিদিন
হাল্কা কাজ কর্ম থেকে শুরু করে ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরে যেতে
হবে।
খাদ্য নির্দেশনাঃ
এনজিওপ্লাস্টি করা রোগীদের খাদ্য নির্দেশনা করোনারি হৃদরোগীদের খাদ্য নির্দেশনার অনুরূপ। অর্থাৎ-
পরিহার করতে হবেঃ
কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ ও সম্পৃক্ত চর্বি (saturated fat) যুক্ত খাবার যেমন ডিমের কুসুম, কলিজা, মাছের ডিম, খাসি বা গরুর চর্বিযুক্ত মাংস, হাস-মুরগির চামড়া, হাড়ের মজ্জা, ঘি, মাখন, ডালডা, মার্জারিন, গলদা চিংড়ি, নারিকেল এবং উপরোক্ত উপকরণ দিয়ে তৈরী খাবার।
বেশী করে খেতে হবেঃ
আঁশ যুক্ত খাবার, যেমন সব রকমের শাক, সব রকমের সবজি(বিশেষ করে খোসা সহ সবজি যেমন ঢেড়স, বরবটি, শিম, কচুর লতি ইত্যাদি), সব রকমের ডাল, সব ধরনের ফল বিশেষ করে টক জাতীয় ফল। সব রকমের সমুদ্রের মাছ, ছোটো মাছ, মাছের তেল। সব রকমের উদ্ভিজ তেল, যেমন কর্ণ অয়েল, সানফ্লাওয়ার অয়েল, সয়াবিন অয়েল (পাম বা নারিকেল তেল নয়)।
হিসাব করে খেতে হবেঃ
শর্করা জাতীয় খাবার যেমন ভাত, রুটি, আলু, চিনি ইত্যাদি। মিষ্টি ফল যেমন পাকা আম, পাকা কলা, পাকা পেপে ইত্যাদি। দুধ ও দুধের তৈরী খাবার।
পরিহার করতে হবেঃ
বিভিন্ন ধরনের ফাস্ট ফুড (Fast food), যেমন বার্গার, স্যান্ডউয়িচ, কেক, পুডিং, আইসক্রিম, বোতলজাত কোমল পানিয় ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে এলকোহল বা তামাক জাতীয় দ্রব্য কোনো খাদ্য নয়, তাই এইসব পদার্থ থেকে যেকোনো মুল্যে দূরে থাকতে হবে।
ডায়াবেটিস রোগে
আক্রান্ত রোগীরা তাদের জন্য নির্ধারিত খাদ্য তালিকা দেখে উপরের তালিকার
সঙ্গে মিলিয়ে খাদ্য তালিকা তৈরী করে নিতে পারেন। রক্তে সুগার বেড়ে যায় এমন
যেকোনো খাবার হৃদরোগের জন্যও পরিহার করা আবশ্যকিয়।
পেস মেকার (pace maker) স্থাপন কারী রোগীদের জন্য পরামর্শ
১. পেসমেকার অপারেশনের স্থান নখ দিয়ে চুলকাবেন না এবং পেসমেকার হাত দিয়ে চাপ দেয়া বা নাড়াচাড়া করার চেষ্টা করবেন না।
২.
হৃদযন্ত্রের গতি অনিয়মিত হলে বা কমে গেলে এবং পেসমেকার লাগানোর পুর্বের
অসুবিধা সমুহ পুনরায় দেখা দিলে সাথে সাথে যেকোনো হৃদরোগ হাসপাতালের জরুরী
বিভাগে যোগাযোগ করবেন বা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করবেন।
৩. বুকের যে পাশে পেসমেকার বসানো হয়েছে সে দিকের কানে মোবাইল ফোন (cell phone) ব্যবহার করবেন না।
৪. উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক ও চুম্বকিয় ক্ষেত্র (এম,আর,আই মেশিন- মেটাল ডিটেক্টর-মাইক্রোওয়েভ অভেন ইত্যাদি) থেকে দূরে থাকুন।
৫. পেসমেকার স্থাপনের পর প্রথমে ১ মাস, ৩ মাস, ৬ মাস এবং পরবর্তীতে প্রতি বছর একবার পেসমেকার চেক আপের জন্য নির্ধারিত স্থানে যোগাযোগ করুন।
৬. খাদ্য নির্দেশনা- স্বাভাবিক ও সুষম খাবার খাবেন, ডায়াবেটিস থাকলে সেই তালিকা অনুযায়ী খাবার খেতে হবে, করোনারি হৃদরোগ থাকলে তার খাদ্য তালিকা মেনে চলতে হবে, উচ্চ রক্ত চাপ থেকে থাকলে সেই অনুযায়ী খাবার খেতে হবে। মোদ্দা কথা পেসমেকার রোগীদের জন্য পৃথক কোনো খাদ্য তালিকা অনুসরন করার প্রয়োজন নাইহার্ট এর ভাল্ভ প্রতিস্থাপন অপারেশনের রোগীদের জন্য পরামর্শ
১. অপারেশনের পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাপের পানি বা তরল জাতীয় খাবার গ্রহন করতে হবে।
২. অপারেশন পরবর্তী পরামর্শ পত্রের প্রতিটি অসুধ প্রতিদিন নিয়ম মতো সেবন করতে হবে।
৩. অপারশন পরবর্তী সময়ে পটাসিয়াম (Potassium) সমৃদ্ধ খাবার কম খেতে হবে (যেমন ডাবের পানি, ফল ইত্যাদি)।
৪. পরামর্শ পত্রে প্রদত্ত রক্ত পাতলা কারি অসুধ ট্যাবলেট ওয়ারিন (Tab Warin) চালিয়েই যেতে হবে, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ব্যতীত এই অসুধ কোনো ক্রমে বন্ধ করা যাবেনা।
৫.
এই রোগীর অন্য যেকোনো অপারেশন করার প্রয়োজন হলে সেই অপারশনের তিন দিন আগে
ট্যাবলেট ওয়ারিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী বন্ধ করতে হবে অন্যথায়
অপারেশনের সময় রক্তপাত বন্ধ করা যাবেনা।
৬. ইনফেকটিভ এন্ডোকার্ডাইটিস (Infective endocarditis) জাতীয়
জটিলতা প্রতিরোধের জন্য যে কোনো অপারেশন এমনকি দাঁত তোলার পূর্বেও
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়টিক অসুধ সেবন শুরু করতে হবে।
৭. শরীরের কোনো অঙ্গে দূর্বলতা বা প্যারালাইসিস দেখা দিলে দ্রুত নিকটবর্তী হৃদরোগ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
৮.খাদ্য তালিকাঃ এ ধরনের রোগীদের বিশেষ কোনো খাদ্য তালিকা নেই বললেই চলে তবে খাদ্যের সাথে অতিরিক্ত ভিটামিন 'কে' (Vitamin K) গ্রহন করলে রোগীর জন্য তা ঝুকি পুর্ন হতে পারে।
৯. ওয়ারিন ট্যাবলেট খাবার নিয়মাবলিঃ
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মাঝে মাঝে রক্তের প্রথ্রম্বিন টাইম (Prothrombin time) পরীক্ষাটি করে দেখতে হবে যে অসুধের মাত্রা ঠিক আছে কিনা এবং না থাকলে তা ঠিক করে নিতে হবে।
- অন্য রোগের চিকিৎসা নিতে হলে ঐ চিকিৎসককে অবশ্যই জানাতে হবে যে আপনি ওয়ারিন ট্যাবলেট গ্রহন করছেন।
- মহিলা রোগীদের সন্তান ধারনের পূর্বে এই অসুধ বন্ধ করতে হয়, না হলে বিকলাঙ্গ সন্তান হবার সম্ভাবনা থাকে, তবে এর পরিবর্তে অন্য অসুধ গ্রহনে তেমন ঝুকি একে বারেই নেই। তাই সন্তান গ্রহনের পূর্বে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ হৃদরোগ সার্জন এর পরামর্শ নিতে হবে।
- নাক বা মুখ দিয়ে রক্ত বের হলে, চামড়া বা চোখের পর্দার নীচে রক্ত জমা হলে, প্রসাবের সাথে রক্ত বের হলে ট্যাবলেট ওয়ারিন খাওয়া বন্ধ করে সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যেতে হবে
হার্ট ফেইলুর (Heart failure) রোগীদের জন্য পরামর্শ
১. কম লবন যুক্ত সুষম খাবার খেতে হবে।
২. পরামর্শ পত্রে প্রদত্ত কোনো অসুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত বন্ধ করা যাবেনা এবং নিয়মিত সেবন করতে হবে।
৩. অতিরিক্ত এবং অনভ্যস্ত কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৪. বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ব্যথার অসুধ বা হরমোন জাতীয় অসুধ সেবন করা যাবেনা।
খাদ্য নির্দেশনা
- দিনে এক (কারো কারো ক্ষেত্রে দেড়) লিটার এর বেশী পানি বা তরল জাতীয় খাদ্য গ্রহন করা যাবেনা।
- খাবার সাথে অতিরিক্ত লবন খাওয়া যাবেনা।
- নোনতা জাতীয় খাবার খাওয়া যাবেনা (যেমন নোনতা বিস্কিট, চানাচুর, আচার, চিপস ইত্যাদি)।
- যদি হার্ট ফেইলুর রোগীর উচ্চ রক্ত চাপ, করোনারি হৃদরোগ বা ডায়াবেটিস থেকে থাকে তাহলে তিনি সেই রোগের নির্দিষ্ট খাদ্য তালিকা মেনে চলবেন।
বাতজ্বর জনিত হৃদরোগ আক্রান্ত রোগীদের জন্য পরামর্শ
১। বাতজ্বরের পুনরাক্রমন প্রতিরোধে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পেনিসিলিন অসুধ খেতে হবে অথবা বেনজাথিন পেনিসিলিন ইনজেকশন নিতে হবে।২। গলা ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করবেন, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক অসুধ সেবন শুরু করবেন।৩। যেকোনো ছোটো খাটো অপারেশন এমনকি দাত তোলার পূর্বে আপনার যে এই রোগ আছে তা সম্পর্কে চিকিৎসককে অবহিত করুন এবং অপারেশনের পূর্বে এন্টিবায়োটিক অসুধ শুরু করুন অন্যথায় আপনার ইনফেকটিভ এন্ডোকার্ডাইটিস (Infective endocarditis) জাতীয় জটিল রোগ হতে পারে।৪। সর্দি কাশি অথবা শ্বাসকষ্ট হলে, কাশির সাথে রক্ত গেলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসা করাতে হবে।৫। শরীরের কোনো অংগে দুর্বলতা বা প্যারালাইসিস দেখা দিলে সাথে সাথে হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।৬। অতিরিক্ত পরিশ্রম করা যাবেনা তবে শরীরে যতটুকু কুলায় ততটুকু পরিশ্রম করা যাবে।৭। বাতজ্বর জনিত রোগী গর্ভধারনের পূর্বে অবশ্যই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।৮। খাদ্য নির্দেশনাঃ বাতজ্বর রোগীদের নির্দিষ্ট কোনো খাদ্য তালিকা অনুসরন করতে হয়না, সব ধরনের স্বাভাবিক খাদ্য গ্রহনে এ ধরনের রোগীদের কোনো বাধা নেই।জন্মগত হৃদরোগ আক্রান্ত রোগীদের জন্য পরামর্শ
১। যে কোনো অপারেশন, দাত তোলা অথবা এন্ডোসকোপি পরীক্ষার আগে আপনার চিকিৎসককে জানান যে আপনার জন্মগত হৃদরোগ আছে।২। ইনফেকটিভ এন্ডোকার্ডাইটিস (Infective endocarditis) রোগ প্রতিরোধের জন্য যে কোনো অপারেশন এমনকি দাত তোলার পূর্বেও আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক অসুধ সেবন করতে হবে।৩। সর্দি কাশি অথবা শ্বাসকষ্ট হলে, কাশির সাথে রক্ত গেলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসা করাতে হবে।৪। শরীরের কোনো অংগে দুর্বলতা বা প্যারালাইসিস দেখা দিলে সাথে সাথে হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।৫। অতিরিক্ত পরিশ্রম করা যাবেনা তবে শরীরে যতটুকু কুলায় ততটুকু পরিশ্রম করা যাবে।৬। জন্মগত হৃদরোগ আক্রান্ত রোগী গর্ভধারনের পূর্বে অবশ্যই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।৭। খাদ্য নির্দেশনা - এ ধরনের রোগীদের নির্দিষ্ট কোনো খাদ্য তালিকা অনুসরন করতে হয়না, সব ধরনের স্বাভাবিক খাদ্য গ্রহনে এ ধরনের রোগীদের কোনো বাধা নেই