এইডস একটি সংক্রামক রোগ যা এইচআইভি (Human Immunodeficiency Virus) ভাইরাসের সংক্রমণের মাধ্যমে হয়। এটি মানুষের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। এইচআইভি সংক্রমণের ফলে অন্যান্য রোগ যেমন-নিউমোনিয়া, মেনিননজাইটিস এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে। এইচআইভি সংক্রমণের পরের ধাপকেই এইডস (Acquired Immunodeficiency Syndrome) বলা হয়।
এইডস এর লক্ষণ ও উপসর্গ
সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত:
- জ্বর
- মাথা ব্যথা
- গলা ভাঙ্গা
- লসিকাগ্রন্থি ফুলে উঠা (Swollen lymph glands)
- শরীরে লালচে দানা (Rash) ইত্যাদি লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়।
- অস্থিসন্ধি ফুলে উঠা (Swollen lymph nodes)
- ডায়রিয়া
- শরীরের ওজন কমা
- জ্বর
- কাশি এবং শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়
- রাতের বেলা খুব ঘাম হওয়া
- কয়েক সপ্তাহ ধরে ১০০ ফারেনহাইট (৩৮ সে.) বা এর অধিক তাপমাত্রার জ্বর অথবা কাঁপুনি
- শুকনা কাশি এবং শ্বাস কষ্ট
- দীর্ঘদিন ধরে ডায়রিয়া
- মুখ অথবা জিহ্বা বেঁকে যাওয়া অথবা সাদা দাগ পড়া
- মাথা ব্যথা
- সবকিছু অস্পষ্ট ও বিকৃত দেখা
- তীব্র অবসাদ অনুভব
- তিন মাসের অধিক সময় ধরে অস্থিসন্ধি ফুলে থাকা ইত্যাদি লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়
- ওজন বৃদ্ধি না পাওয়া
- স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হওয়া
- হাঁটতে সমস্যা
- মানসিক বৃদ্ধি দেরীতে হওয়া
- কানের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া এবং টনসিলের মতো সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার প্রকট আকার ধারণ করা
- শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে
- এইচআইভি সংক্রমিত রক্ত আদান-প্রদানের মাধ্যমে
- কারো ব্যবহৃত সুচ এবং সিরিঞ্জ ব্যবহারে মাধ্যমে
- সিরিঞ্জ এর মাধ্যমে দুর্ঘটনা জনিত কারণে
- গর্ভবতী মা এইচআইভিতে আক্রান্ত হলে, ডেলিভারীর সময় এবং আক্রান্ত মায়ের দুধ পান করলে শিশুর এই রোগ হতে পারে।
- শরীরের কোন অঙ্গ বা কলা প্রতিস্থাপন করলে অথবা জীবাণুমুক্ত করা হয়নি এমন সরঞ্জাম দিয়ে দাঁতের চিকিৎসা বা অপারেশন করলে।
- আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে খাওয়া দাওয়া করলে
- আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত পায়খানা (একই বাথরুম) ব্যবহার করলে
- আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে হাত মিলালে
- আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে খেলাধূলা, কোলাকুলি করলে
- এই থালায় ভাত খেলে
রোগের প্রাথমিক ও পরবর্তী পর্যায়ের লক্ষণ ও উপসর্গগুলো দেখা দেয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
এইচআইভি/ এইডস আক্রান্ত হলে জীবন-যাপন পদ্ধতি
- শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন না করা
- গর্ভধারণ না করা
- বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখানো
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন ও নির্দেশনা মেনে চলা
- প্রতিষেধক গ্রহণ
- সুষম খাদ্য যেমন-তাজা শাকসবজি, ফলমূল ইত্যাদি খাওয়া
- যেসব খাবার খেলে সংক্রমণ হতে পারে যেমন-কাঁচা খাবার সেগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকা
- বিশুদ্ধ পানি পান করা
- নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা
- পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রাম
- ধূমপান ও মদপান থেকে বিরত থাকা
- হাত ভালোমত পরিষ্কার করা
- নিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন
- এইচআইভি আক্রান্ত কারো সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা থেকে বিরত থাকা
- অপরিষ্কার এবং কারো ব্যবহৃত সুচ ব্যবহার না করা
- কারো থেকে রক্ত গ্রহণ করতে হলে সেটা এইচআইভি সংক্রমিত কিনা পরীক্ষা করে দেখা
- নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা
- এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির ব্লেড এবং টুথব্রাশ ব্যবহার না করা
- গর্ভবতীদের ক্ষেত্রে সঠিক যত্ন নেয়া
- সতর্কতার সাথে নিজের শারীরিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রতি খেয়াল রাখা।