সংক্রামক
রোগ ধীরে ধীরে কমছে। আর দ্রুত বাড়ছে অসংক্রামক রোগ। আর্থিক অসচ্ছলতা,
অশিক্ষা এবং চিকিৎসার অপ্রতুলতা এই সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলছে। এসব
রোগের চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যয়বহুল হয়ে থাকে । তাই প্রাথমিক পর্যায়ে
প্রতিরোধ করার বিষয়ে সবাই কে সজাগ থাকতে হবে। মানুষের জীবন যাত্রার মান,
সামাজিক অস্থিরতা, খাদ্যাভ্যাস, যান্ত্রিক জীবন সবকিছু মিলিয়েই অসংক্রামক
রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির জন্য দায়ী ।
কিছু কারণ যেমন :
- কায়িক শ্রম ও ব্যায়াম না করা
- অলস জীবন যাপন করা, স্থূলতা বা অতিরিক্ত মোটা হওয়া
- ধূমপান, তামাকপাতা, জর্দা, মাদক সেবন
- অতিরিক্ত টেনশন, মানসিক চাপ
- খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, শাকসবজি, ফলমূল কম খাওয়া, অধিক ক্যালরি সমৃদ্ধ ও অধিক চর্বি- শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস, অতিরিক্ত মাত্রায় কোমল পানীয় গ্রহণ
- খেলার মাঠের অভাব, বিদ্যালয়ে শরীর চর্চা বা খেলাধুলা র সংস্কৃতির বিলোপ, টেলিভিশন আর কম্পিউটার গেম ও ফেসবুক।
- গাড়ি-লিফট-চলন্ত সিঁড়ি ব্যবহারের প্রবণতা
- খাদ্যে কেমিক্যাল ও ভেজাল
- জলবায়ু দূষণ
প্রতিরোধের উপায় :
অসংক্রামক রোগ আজ মারাত্মক জনস্বাস্থ্য সমস্যা, যা
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতিকার ও প্রতিরোধ যোগ্য। রোগের প্রতিকারের চেয়ে
প্রতিরোধের ব্যাপারে বেশি যত্নবান হতেহবে, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক
এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে—
- মানসিক ও শারীরিক চাপ সামলাতে হবে। নিয়মিত বিশ্রাম, সময় মতো ঘুমানো, নিজের শখের কাজ করা, নিজ ধর্মের চর্চা করা ইত্যাদি র মাধ্যমে মানসিক শান্তি বেশি হবে।
- কায়িক শ্রম ও নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। বাড়তি ওজন কমাতে হবে।
- ধূমপান, মদ্যপান, মাদকদ্রব্য, তামাক পাতা ও জর্দা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
- খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা:
- কমচর্বি ও কম কোলেস্টেরল যুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। লবণ নিয়ন্ত্রণের জন্য তরকারিতে প্রয়োজনীয় লবণের বাইরে অতিরিক্ত লবণ পরিহার করতে হবে ।
- শিক্ষা ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। এসব রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।