নদীমাতৃক
দেশ বাংলাদেশ৷ আমাদের দেশের চারিদিকে রয়েছে প্রচুর নদী-খাল-পুকুর৷ আমাদের
দেশের বাচ্চারা এবং বড়রাও অনেক সময় অসাবধানতার কারণে মারা যায় পানিতে ডুবে৷
এই পানিতে ডোবা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায় বর্ষাকালে৷ একটু সতর্কতা
অবলম্বন করলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার বহুলাংশে কমানো সম্ভব৷ পানিতে ডুবে
যাওয়ার পরে নাক-মুখ দিয়ে পানি ফুসফুসে প্রবেশ করার ফলে রোগীর শ্বাসরোধ হয়ে
আসে আর প্রচুর পানি খেয়ে পেট ফুলে যায়৷ ২-৩ মিনিট মস্তিষ্কে অক্সিজেনের
ঘাটতি হলে ক্ষতি হয় এবং ৪-৬ মিনিট শ্বাস বন্ধ থাকলে সাধারণত মৃত্যু ঘটে ।
প্রাথমিক চিকিত্সা
- যদি কেউ পানিতে ডুবে যায় তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডুবন্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে হবে৷ তবে পানিতে ডোবা রোগীকে উদ্ধারের জন্য পারদর্শী লোকের প্রয়োজন৷ নতুবা উদ্ধারকারীর জীবন বিপন্ন হতে পারে
- যার শ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে তাকে পানি থেকে তোলার আগেই (যদি সম্ভব হয়) নাক ও মুখে কিছু থাকলে তা দ্রুত আঙুল দিয়ে পরিষ্কার করে মুখে মুখ রেখে শ্বাস দিতে হবে
- যদি মুখে মুখে শ্বাসক্রিয়া চালু না করা যায় অর্থাত্ বাতাস যদি ফুসফুসে প্রবেশ না করে তবে বুঝতে হবে শ্বাসনালী ও ফুসফুস সম্পূর্ণ পানিতে ভর্তি৷ সে অবস্থায় রোগীকে ডাঙ্গায় তুলে এনে ফুসফুস থেকে পানি বের করতে হবে৷ প্রথমে রোগীকে উপুড় করে শুইয়ে দিতে হবে৷ তারপর পেট ধরে উচু করতে হবে যাতে মাথা, বুক নিচের দিকে থাকে৷ পিঠে আস্তে আস্তে চাপড় দিতে হবে৷ এতে পাকস্থলী, শ্বাসনালী ও ফুসফুসের পানি বের হয়ে আসবে৷ পানি বের করার জন্য বেশি সময় নেয়া যাবে না৷ তারপর কৃত্রিম পদ্ধতিতে শ্বাস-প্রশ্বাস চালিয়ে যেতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস আরম্ভ হয়
- সম্ভব হলে ভেজা কাপড় খুলে দিতে হবে৷ হাত-পা ঠাণ্ডা হলে ম্যাসেজ বা গরম সেঁক দিতে হবে
- রোগীকে আরামে শুইয়ে রাখতে হবে, পায়ের দিক কিছু ওপরে ও মাথা কিছু নিচের দিকে রাখলে ভালো হয়
- অবস্থা ভালো থাকলে কুসুম গরম দুধ, চা ইত্যাদি খেতে দেয়া যায়
- অবস্থা ভালো না হলে নিকটস্থ হাসপাতালে দ্রুত নিয়ে যেতে হবে৷ প্রয়োজনে অক্সিজেন দিতে হবে
- ঔষুধ সেবন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে রেজিষ্টার চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।